‘কুত্তার বাচ্চা ফুটফুটে সুন্দর’ গানটির লেখক কুয়াশা মুর্খ, গায়ক ফকির সাহেব। গানটি উপস্থাপনা মূলত বোবা প্রাণী কুকুরের বিশ্বস্ততা, সরলতা, নিষ্পাপ কুকুরের প্রতি মায়া প্রকাশে। পাশাপাশি গানটি অসৎ ব্যক্তি/মানুষের কর্ম এবং কুকুরের মধ্যে তুলনা করে বুঝানো হয়েছে, কুকুর ঐসব মানুষের থেকে ভালো, বিশ্বস্ত এবং কারোর কোনো ক্ষতি করে না ৷
অথচ, আমাদের প্রজন্ম করলো কি? গানটিকে তারা একধরনের গালি হিসেবে সর্বত্রব্যাপী ব্যবহার করে বেড়াচ্ছে।
সম্প্রতি Cock Studio বাংলার "প্রিতম হাসানের" দেওরা গানটি বেশ জনপ্রিয় হয়। এই গানের একটি লাইন হলো - ‘হাত ছাইরা দ্যাও_সোনার দ্যাওরা রে’!!!
এই গানের লাইটিকে আমাদের Genaration ধরে নিয়েছে অশ্লীলতা হিসেবে। অথচ এই গানটি নৌকা-বাইচকে কেন্দ্রস্থ করেই মূলত তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘক্ষণ একটানা বাইচের নৌকায় বৈঠা চালাতে হলে অনেক শক্তির প্রয়োজন হয়। মূলত গ্রামের Young এবং Adult রা এই কাজ করেন। নৌকা বাইচ দেখতে সকল বয়সী মানুষের সাথে গ্রামের ভাবীরাও আসেন। তো একটানা বৈঠা বাইতে বাইতে যখন হাত ব্যাথা হয়ে যাচ্ছে, তখন দেবর বলছে- ‘হাতে লাগে ব্যাথা রে’। আর ভাবী বলছে :- ‘হাত ছাইরা দ্যাও সোনার দ্যাওরা রে’। অর্থাৎ, হাত ছেড়ে আরো জোরে বৈঠা দাও!!
- ‘দেওরা’ মূলত দুপক্ষের সংলাপের মধ্যমে সংগঠিত একটি পালাগান (সারিগান, জাগগান)। গানটির রচয়িতা ফজলুল হক, তিনি পেশায় একজন কৃষক ও মাঝি। পালাগানের নাট্যরসাত্বকতা ও স্বতন্ত্র ভঙ্গিমাকেই তুলে ধরা হয় গানটিতে। তাছাড়া, গানটিতে কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষার সুরও রয়েছে।
অথচ, আমাদের Genaration গানটার সারমর্ম চিন্তা করেছে এমন - ‘খারাপ উদ্দেশ্যে ভাবীর হাত ধরল দেবর, তাই ভাবী হাতে ব্যাথা পেয়েই হাত ছেড়ে দিতে বলছে দেবরকে’! এবার বুঝেন অবস্থা?!
নিউজে দেখলাম - টেলিগ্রামে বাংলাদেশী তরুণদের প্রায় ৪ লাখ সদস্যদের একটা Group আছে, যারা মেয়েদের অনুমতি ছাড়া Nod Video ধারণ এবং সংগ্রহ করে, সেগুলো অন্যের কাছে বিক্রি করতো, আবার সেসব দিয়ে Blackmail করে অর্থ আত্মসাৎ করতো। চক্রটি ইন্টারনেটে ছড়িয়েছে ২০ হাজার আপত্তিকর ভিডিও এবং ৩০ হাজার ছবি।
যাইহোক। এই তো গেলো মাত্র ৪ লাখ সদস্যের কথা।
মাত্র ২০ বছর আগেও পিছিয়ে থাকা আজকের চীনের Young Genaration যখন জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-গবেষণায়, তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্বকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে; তখন আমাদের দেশের ইয়াং জেনারেশনের কাজ কি জানেন??
একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন: - কে কার সাথে রাত কাটালো, কে কার সাথে গেলো, কে কাকে আলিঙ্গন করলো, কার সাথে কার ভাব-ভালোবাসা হইলো, এগুলোই আমাদের দেশের মানুষ,, জোয়ানি, বৃদ্ধ সকল বয়সীদের আলোচনার বিষয়। এসব জিনিসের লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করে দেশের প্রায় প্রতিটা ছেলে-মেয়েরাই যেনো একরকম নিষিদ্ধ আনন্দ পায়!
Chinese শিক্ষার্থীরা যখন AI(Artificial Intelligence) নিয়ে আমেরিকার সাথে প্রতিযোগিতা করছে, তখন আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা কার ন্যুডস ভিডিও ফাঁস করা যায় তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় বস্ত্য রয়েছে। চায়নিজ ছেলেমেয়েরা যখন মহাকাশে/চাঁদে/মঙ্গল গ্রহে পৌঁছে গেছে, তখন আমাদের দেশের তরুণ-তরুনীরা অন্যের কাপড়ের নিচ থেকেই বেরুতে পারেনি। চিন্তা করেছেন - আমাদের দৌঁড়, রুচিবোধ, আমাদের ভিশন/মিশন কোথায় গিয়ে আটকে গেছে? আমরা কোথায় আর তারা কোথায়??!
বিশ্বে কতো কিছু ঘটে যাচ্ছে, কতো কিছু আবিষ্কার হচ্ছে, সমগ্র বিশ্বে AI, Robot, Machine Learning নিয়ে তমুল আলোচনা/গবেষণা চলছে। AI platform সম্পূর্ণ improve করলে বিশ্বে কাজ হারাবে প্রায় ৩০-৫০ কোটি মানুষ। এসব কিছু কি ভাবা যায়? এরসাথে তাল মিলাতে আমরা কি করছি?!
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে হওয়ার কথা বিশ্বমানের মানুষ। দেশে বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দুটিই বেড়েছে, অথচ আমরা অন্যের কাপড়ের নীচ থেকেই এখনো বেরুতে পারিনি, এভাবে বিশ্বমঞ্চে ঠিক পৌঁছাবোই বা কীভাবে? কারোর মধ্যেই তথ্য প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে কোন আলোচনাই নেই!!
Thanks for Reading Article

